Saturday, May 10, 2014

" মা"

২০১১ এর একেবারে প্রথম এ ফেব্রুয়ারি মাস এর কয় তারিখ ঠিক মনে নাই (মনে করতে চাই ও না) রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষ করে বসে আছি হঠাৎ আম্মু চিৎকার দিয়ে উঠসে! কি হইসে যেয়ে দেখি আম্মু বেসিন এর সামনে দাঁড়াইয়া নাক মুখ দিয়ে অনবরত রক্ত পরতেসে। কোনকিছু তেই থামে না। আব্বু ও সেইদিন বাসায় নাই। আমি দেখে নাই!! আমার পুরো গেঞ্জি রক্তে লাল হয়ে গেসে। কোন মতই কিছু না হয় না। তারাতারি নিয়ে গেলাম পাশের আলহেলাল এ। নিয়া সেম কেও কিছু করতে পারে না। আইসিইউ তে নেওয়ার পর ডক আইসা তুলার পর তুলা দিয়া ট্রাই করে কিছু হয় না। হেভি সিডাটিভ দিয়া ও কিছু হয় না। এর পর ডক একজন আইসা কি ইঞ্জেক্সন দিলো এর পর একটু কমা শুরু করসে কিন্তু বন্ধ হয় না। সেই ৩ ঘণ্টা মনে হয় জীবন এর সবচেয়ে বড় ৩ ঘণ্টা আর সেই রাত জীবন এর সবচেয়ে বড় রাত গেসে। আব্বু শুনে রউনা দিসে বোন কান্নাকাটি করতেসে আর আইসিইউ তে কেও রে থাকতে দিবে না। আমার সাথে চিল্লায় যে বাহির এ যেতে। কেমন করে তাকাইসি জানি না কিন্তু এর পর আর নার্স কিছু বলতে পারে নাই। সারারাত এর পর আম্মুর পাশে দাড়িয়ে থাকা ২টার দিকে আম্মু একটু ঘুম ঘুম করে শুয়ে আছে। কেও নাই আশে পাশে আমি জানি না কি হইসে আমি আম্মুর পেটের উপর হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছি এইটা কনফার্ম করার জন্য যে না আম্মু নিয়মিত শ্বাস নিচ্ছে। সারারাত দাড়িয়ে দাড়িয়ে শুধু দেখলাম যে নাহ ঝড় শেষ এ একটু শান্তি হয়ে জাচ্ছে সব!


সকালে  বের হলাম। ডক বললো যে ব্রেইন স্ট্রোক করসিলো আম্মু তাই এই অবস্থা হইসিলো! সেই রাত এর ভয়! দুনিয়ার সব চেয়ে প্রিয় মানুষ টার জন্য ভয়। যেই মানুষটা আমি যতই খারাপ হই না কেন সবার কাছ থেকে আগলে রাখার ব্যাপার গুলা। শুধু মাত্র আমার জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় সেক্রিফাইস করা মানুষটা। কিছুই করতে পারি নি তার জন্য এখন অও। কিচ্ছু না। এক গাদা কষ্ট প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছি স্বার্থপর এর পর। এত প্রচণ্ড ভয় পেলাম। যে এই মানুষটা না থাকলে কে আগলে রাখবে সবার থেকে। কে শুধু আম্মু বলে ডাকলে বুঝে যাবে যে ক্ষুধা লাগসে। কে আবার বকা দিবে। কে আবার রাগ করবে! উনি না থাকলে কি হবে। এই প্রচণ্ড ভয় এমন ভাবেই ঘ্রাস করে আছে এখন ও এর পর থেকে এমনকি আম্মুর সাথেও আমি কোন হসপিটাল এ যেতে পারি না। এখন অও পারি না। কয়দিন আগেও না পারতে যাবার পর অও ১০ মিনিট অও ভিতরে থাকতে পারি নি। প্রচণ্ড ভয় হয়।


একটা মানুষই তো আছে। শুধু দেখলেই বুঝতে পারে চাইছে এই পাগলটা।
সবচেয়ে কমন ডায়ালগঃ পাগল তো নিজের টাও বুঝে! কি এমন এক পাগল বানাইলাম যে নিজের টাও বুঝে না।


নিজের টা নিজে বুঝলে তুমি হয়তো বুঝতে চাইতে না মা! তাই বুঝি না। J J

Wednesday, May 7, 2014

মধ্য রাতের ঝড়! হোক সেটা প্রকৃতির বা একাকী মনের! 


প্রচণ্ড ভয়ঙ্কর হয়! নিষ্ঠুর আক্রোশে তছনছ করে দিতে চায় আশেপাশের সব কিছু! মুহুর্মুহু বজ্রপাত আর দমকা হাওয়ায় চোখ রাঙিয়ে বলে, চাইলে আমিও পারি সব কিছু এক লহমায় উড়িয়ে নিয়ে যেতে! পারি আমি ঝলসে দিতে নিজের উন্মত্ত ক্রোধে!
 


কানফাটা তীব্র আর্তনাদে মনে করিয়ে দিতে চায় নিজের সব ব্যাথা! আহত সিংহের মতো গর্জন করে জানিয়ে দিতে চায় বেঁচে আছি কিছু ক্ষত নিয়ে, প্রচণ্ড আক্রোশ নিয়ে। প্রচণ্ড! প্রচণ্ড!! প্রচণ্ড!!!


দমকা বাতাসে কান পেতে রাখলে শুনতে পারবে এক বোবা আর্তচিৎকার! অনেক না বলা ব্যাথা! অনেক স্বপ্নের অপমৃত্যুর হাহাকার! অনেক ছোট্ট কিছু পাবার
 না পাওয়া কষ্ট! বোবা কান্নায় গুমরে গুমরে নষ্ট হওয়া কোন এক ব্যর্থ অপমৃত্যুর হাহাকার! 


এরপরই আবার কষ্টগুলো হয়তো নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে বৃষ্টির পানির মধ্যে দিয়ে ঝরে পড়তে চায়! সব নিঃশেষ করে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে ধুয়ে মুছে ফেলার মিথ্যা প্রচেষ্টায় বারংবার চেষ্টায় সব শেষ করে দিতে চায়! নিজের সবকিছুর শেষ দেখতে চায়। ( অপরিসমাপ্ত )

Friday, April 4, 2014

সম্পর্ক এবং আমরা।

সম্পর্ক যার উপর ভিত্তি করেই পুরো সমাজ ব্যবস্থা! কিন্তু এই সম্পর্ক একটু বেশিই অন্যরকম এখন। হয়ত খুব কাছের মানুষ তাও খুব দূরের কেউ হতে পারে। আবার খুব দূরের কেউ হঠাৎই খুব কাছের কেও এ পরিনিত হতে পারে।


আশেপাশেরই কেউ একজন যাকে প্রায় দেখছেন মাঝে মাঝে কথাও বলছেন হয়তো একসময় দেখতে পেলেন, আরেহ! এই মানুষটা তো হুবুহু আমার মতই চিন্তা করছে। আবার যার সাথে থাকছেন খাচ্ছেন চলছেন কোন একসময় খেয়াল হল, আরেহ! একে তো আমি চিনিই না। আমি কেমন 
করে আছি এর সাথে?


চলার পথে চলতে চলতে মাঝে মাঝেই খুব অচেনা মানুষ গুলোর সাথে সম্পর্ক এমন একটা রূপে হয়ে যায় যা সারাজীবনের জন্য। এই সম্পর্ক গুলোতে চাওয়া পাওয়া বলে কোন কিছুই থাকে না। থাকে একজন আরেকজন এর প্রতি প্রচন্ড শ্রদ্ধা বা প্রচন্ড ভালোবাসা! অথবা একসাথে হয়তো দুটোই। অ্যান্ড সম্পর্ক গুলোও কত আজিব যে, এখানে নেই কোন ফর্মালিটি, নেই কোন লোক দেখানো আবেগ, ভালোবাসা। যেন খুব যত্নের সাথে বড় করা কোন এক মহিরুহ! যা সেই দুজন মানুষের নিবিড় যত্নে ধীরে ধীরে বড় হয় কিন্তু কেউ হয়তো কোনোদিনই খেয়ালই করে না। মহিরুহটাও কিন্তু খুব যত্নের সাথে দুজন কে আগলে রাখে। যদি না কোনোদিন ভুল বুঝাবুঝির বিষে বিষাক্ত হয় সেই মহিরুহটা!!!


আমার কাছে সম্পর্ক ৪চাকার একটা ছোটো গাড়ির মত। যে খানে দুটো মানুষ দু পাশের দুচাকা! এক পাশের একটা চাকাও যদি তাল মিলিয়ে চলতে না পারে বা চলতে না চায়! তখন আর যাই হোক গাড়ি চলবে না। জীবন এর শেষ স্টেশনও একসাথে দেখা হবে না সেই সম্পর্ক বা গাড়ির। এক পাশের চাকা যতই চেষ্টা করতে থাকুক না কেন গাড়ি একটুও সামনে আগাবে না। আগাবে কেমন করে?? অন্য পাশের চাকা তো চাচ্ছে না!!!!! হয়তো ঠেলে টেনে হিঁচড়ে একটু কিছু দূর সামনে আগাতে পারে 
কিন্তু লক্ষ্য অদেখাই রয়ে যায়।




ইচ্ছে না থাকলে জোর করে কি আর কিছু হয় কোনোদিন?????